চার মূলনীতি
জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা: ১৯৭২-এর সংবিধানে এই চার মূলনীতি ছিল মুক্তিযুদ্ধের তিন লক্ষ্যে, অর্থাৎ সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারে পৌঁছানোর পথ। এই পাতায় দেখা যাবে কোন পথ কোন লক্ষ্যের জন্য, সংবিধানে কী লেখা আছে, আর ২০২৬-এ তার অবস্থা কী।
লক্ষ্য থেকে পথ
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিলের ঘোষণাপত্র বলে দিয়েছিল কী চাই: সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার১। ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদ যে সংবিধান গ্রহণ করল২, তা বলল কীভাবে পাব। প্রস্তাবনায় লেখা হলো:
"যে সকল মহান আদর্শ আমাদের বীর জনগণকে জাতীয় মুক্তি সংগ্রামে আত্মনিয়োগ ও বীর শহীদদিগকে প্রাণোৎসর্গ করিতে উদ্বুদ্ধ করিয়াছিল — জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার সেই সকল আদর্শ এই সংবিধানের মূলনীতি হইবে।" (সংবিধান, প্রস্তাবনা)৩
লক্ষ্য আর পথের সম্পর্ক পরে কারও বানানো ব্যাখ্যা নয়; সংবিধানের পাঠেই তা লেখা আছে।
- প্রস্তাবনা রাষ্ট্রের লক্ষ্য বলছে "গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এমন এক শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজের প্রতিষ্ঠা", যেখানে সবার জন্য "রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা ও সুবিচার নিশ্চিত হইবে"৩।
- অনুচ্ছেদ ১০ সমাজতন্ত্রের উদ্দেশ্য বলছে "ন্যায়ানুগ ও সাম্যবাদী সমাজলাভ"৪।
- অনুচ্ছেদ ১১ গণতন্ত্রের সংজ্ঞায় রেখেছে "মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ"৪।
অর্থাৎ তিন লক্ষ্যের শব্দ (সাম্য, মর্যাদা, সুবিচার) বসানো আছে চার পথের অনুচ্ছেদের ভেতরেই। লক্ষ্য হলো গন্তব্য; মূলনীতি হলো সেখানে যাওয়ার রাস্তা।
তবে চার পথের ভূমিকা এক রকম নয়। এটি লেখকের নিজস্ব বিশ্লেষণ: প্রতিটি পথ সব লক্ষ্যে কিছু না কিছু অবদান রাখে, কিন্তু কোন লক্ষ্যের জন্য কোন পথ অপরিহার্য, সেই হিসাব আলাদা।
| লক্ষ্য | অপরিহার্য পথ | কেন | ১৯৭২-এর ভিত্তি |
|---|---|---|---|
| সাম্য | সমাজতন্ত্র | বাজারের ওপর ছেড়ে দিলে সম্পদ কেন্দ্রীভূত হয়; শুধু নিয়ন্ত্রণ দিয়ে পাওয়া সাম্য টেকসই নয় | প্রস্তাবনা; অনুচ্ছেদ ১০, ১৩, ১৪, ১৫ |
| মানবিক মর্যাদা | গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা | যার কণ্ঠ নেই, ভোট নেই, তার মর্যাদা রাষ্ট্রের দয়ার ওপর নির্ভরশীল; রাষ্ট্র একটি ধর্মকে বিশেষ মর্যাদা দিলে বাকি ধর্মের নাগরিক কার্যত দ্বিতীয় শ্রেণির হয়ে যান | অনুচ্ছেদ ১১, ১২; মৌলিক অধিকার |
| সামাজিক সুবিচার | গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা | জনগণ সরকার বদলাতে না পারলে অবিচারের প্রতিকার থাকে না; রাষ্ট্র কোনো ধর্ম বা গোষ্ঠীর পক্ষ নিলে আইনের সমতা থাকে না | অনুচ্ছেদ ১১, ১২, ২৭, ২৮ |
| সব লক্ষ্যের জন্য | জাতীয়তাবাদ, কেবল অন্তর্ভুক্তিমূলক রূপে | ধর্মভিত্তিক জাতীয়তার জবাব ছিল, কিন্তু "বাঙালি" সংজ্ঞা আদিবাসীদের বাদ দিয়েছে; নতুন করে গড়তে হবে | অনুচ্ছেদ ৯ |
এই মানচিত্রের একটা জরুরি ফল আছে। পথের রূপ আর বাস্তবায়ন বদলানো যায়; কিন্তু কোনো লক্ষ্যের অপরিহার্য পথ মুছে ফেললে সেই লক্ষ্য কাগজের শব্দ হয়ে যায়।
আরেকটি সীমা শুরু থেকেই লেখা ছিল: অনুচ্ছেদ ৮(২) অনুযায়ী মূলনীতিগুলো আইন প্রণয়ন আর সংবিধান ব্যাখ্যার নির্দেশক, কিন্তু আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য নয়৫। রাষ্ট্র এগুলো না মানলে নাগরিক মামলা করে তা মানাতে পারেন না।
জাতীয়তাবাদ
সংবিধানে কী বলা
অনুচ্ছেদ ৯ অনুযায়ী, "ভাষাগত ও সংস্কৃতিগত একক সত্তাবিশিষ্ট" যে বাঙালি জাতি মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছে, সেই জাতির ঐক্য ও সংহতিই বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি৪। এটি ছিল পাকিস্তানের দ্বিজাতি তত্ত্বের জবাব: পরিচয়ের ভিত্তি ধর্ম নয়, ভাষা আর সংস্কৃতি।
কোন লক্ষ্যের পথ
জাতীয়তাবাদ তিন লক্ষ্যেরই সহায়ক, তবে কেবল অন্তর্ভুক্তিমূলক রূপে। ভাষা-সংস্কৃতিভিত্তিক জাতীয়তায় হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সমান। কিন্তু "একক সত্তা" বলতে বোঝানো হলো কেবল বাঙালি; চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, সাঁওতাল, গারোসহ যাঁদের ভাষা বাংলা নয়, ১৯৭২-এর সংবিধানে তাঁদের কোনো উল্লেখ ছিল না। গণপরিষদে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা ১৯৭২ সালের ২৫ ও ৩১ অক্টোবর এর প্রতিবাদ করেন, আর ৩১ অক্টোবর ওয়াকআউট করেন৬।
২০২৬-এ অবস্থা
- বর্তমান অনুচ্ছেদ ৬(২) (২০১১-র পাঠ): জনগণ "জাতি হিসাবে বাঙালী", নাগরিক "বাংলাদেশী"৭।
- অনুচ্ছেদ ২৩ক (২০১১) আদিবাসীদের বলেছে "উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়"; "আদিবাসী" স্বীকৃতি নেই৭।
- ২০২৬ সালের ১১ আগস্ট স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশে কোনো আদিবাসী নেই, সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। অর্থাৎ নাগরিক হিসেবে সমান বলে জাতিসত্তার আলাদা পরিচয়ের দাবি নাকচ করা হয়েছে৮।
পাঁচ মানদণ্ডে (SMART) জাতীয়তাবাদ
সমাজতন্ত্র
সংবিধানে কী বলা
অনুচ্ছেদ ১০: "মানুষের উপর মানুষের শোষণ হইতে মুক্ত ন্যায়ানুগ ও সাম্যবাদী সমাজলাভ নিশ্চিত করিবার উদ্দেশ্যে সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হইবে।"৪ সংবিধান শুধু শব্দটা লিখে থামেনি:
- অনুচ্ছেদ ১৩: তিন ধরনের মালিকানা: জনগণের পক্ষে রাষ্ট্রীয়, আর আইনে নির্ধারিত সীমার মধ্যে সমবায়ী ও ব্যক্তিগত৯।
- অনুচ্ছেদ ১৪: কৃষক, শ্রমিক আর অনগ্রসর মানুষকে সব শোষণ থেকে মুক্ত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব৯।
- অনুচ্ছেদ ১৫: অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা ও চিকিৎসা, কর্মসংস্থান, বিশ্রাম আর সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব৯।
"গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র" শব্দবন্ধটি সংবিধানে ছিল না, তবে প্রস্তাবনা "গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে" সমাজতান্ত্রিক সমাজের কথা বলেছিল। লেখক সমাজতন্ত্রকে লেবেল বা বিদেশি মডেল দিয়ে নয়, কাজ দিয়ে বোঝান: বাজারের ওপর সামাজিক নিয়ন্ত্রণ, ভূমি সংস্কার, সর্বজনীন শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, শ্রমিকের সংগঠিত ক্ষমতা, প্রগতিশীল কর, সম্পদ-কেন্দ্রীভবনের সীমা, আর সামাজিক ও সমবায়ী মালিকানা।
কোন লক্ষ্যের পথ
সাম্যের অপরিহার্য পথ। পাকিস্তান আমলে মাহবুবুল হকের হিসাবে ২২টি পরিবারের হাতে ছিল শিল্প-সম্পদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ, ব্যাংকিংয়ের ৮০ শতাংশ আর বিমার ৭০ শতাংশ১০। লেখকের যুক্তি: নিয়ন্ত্রণ আর কল্যাণ-রাষ্ট্র দিয়ে কিছু সময় সাম্য পাওয়া যায়, কিন্তু মালিকানা আর ক্ষমতার কাঠামো না বদলালে অর্জন টেকসই হয় না। বিপক্ষ বলে, নর্ডিক দেশগুলো সমাজতন্ত্র ছাড়াই সাম্য পেয়েছে; লেখক মেনে নেন যে নর্ডিক কল্যাণ-রাষ্ট্র প্রায় নব্বই বছর টিকে আছে১১, তবে দেখান সুইডেনে ১৯৯০-এর দশক থেকে বৈষম্য ওইসিডির অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি বেড়েছে (ওইসিডির এক গবেষণা এর ৪০ শতাংশের বেশি জনমিতিক ও কাঠামোগত কারণে ব্যাখ্যা করে)১২। আবার সোভিয়েত অভিজ্ঞতা দেখায়, সমাজতন্ত্র সাম্যের জন্য অপরিহার্য হলেও একা যথেষ্ট নয়; তাই প্রস্তাব গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র।
২০২৬-এ অবস্থা
- অনুচ্ছেদ ৮-এ মূলনীতি হিসেবে আছে, অর্থনীতিতে নেই: ২০২৪–২৫ অর্থবছরে প্রতি চার টাকা বিনিয়োগের প্রায় তিন টাকা ছিল বেসরকারি১৩।
- আয়-বৈষম্যের জিনি সহগ ২০১০-এ ০.৪৫৮, ২০১৬-তে ০.৪৮২, ২০২২-এ ০.৪৯৯১৪।
- সংস্কার কমিশন অনুচ্ছেদ ১০ বাদ দিতে বলেছে১৫; কমিশন বা জুলাই সনদ, কোথাও অর্থনৈতিক পথের উল্লেখ নেই।
পাঁচ মানদণ্ডে (SMART) সমাজতন্ত্র
গণতন্ত্র
সংবিধানে কী বলা
অনুচ্ছেদ ১১: প্রজাতন্ত্র হবে একটি গণতন্ত্র, যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকবে, "মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ" নিশ্চিত হবে, আর প্রশাসনের সব পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ থাকবে৪। শেষ অংশটি ১৯৭৫-এর চতুর্থ সংশোধনী মুছে দিয়েছিল; ১৯৯১-এর দ্বাদশ সংশোধনী তা ফিরিয়ে আনে১৬।
কোন লক্ষ্যের পথ
মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের অপরিহার্য পথ। মত প্রকাশ আর ভোটের অধিকার মানে নাগরিক "প্রজা" নন, রাষ্ট্রের মালিক; আর জনগণ সরকার বদলাতে না পারলে অবিচারের প্রতিকারও থাকে না। সাম্যের সঙ্গেও যোগ আছে: এক ব্যক্তি, এক ভোট; কিন্তু নির্বাচনে টাকার প্রভাব থাকলে এই সমতা কাগজে থাকে।
২০২৬-এ অবস্থা
- ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের গণতন্ত্র সূচকে, ২০২৪ সালের পরিস্থিতির ভিত্তিতে, বাংলাদেশ ১৬৭ দেশের মধ্যে যৌথভাবে ১০০তম, "হাইব্রিড শাসন"; নম্বর ৪.৪৪, কর্তৃত্ববাদী শাসনের সীমার কাছাকাছি১৭।
- ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর নির্বাচনে প্রায় ৬০ শতাংশ উপস্থিতি১৮, তবে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারেনি; ২০২৫ সালের মে মাসে দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ হয়১৯।
- অনুচ্ছেদ ৭০-এর কারণে সংসদ দলীয় নেতৃত্বের অধীন; মত প্রকাশের ক্ষেত্রে সাইবার নিরাপত্তা আইন (২০২৩) দিয়ে মামলা, আর ২০২৪-এর পর জনতার ভয়ে স্বনিয়ন্ত্রণ।
- চার মূলনীতির মধ্যে একমাত্র গণতন্ত্রই সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবে টিকে আছে২০।
পাঁচ মানদণ্ডে (SMART) গণতন্ত্র
ধর্মনিরপেক্ষতা
সংবিধানে কী বলা
অনুচ্ছেদ ১২ ধর্মনিরপেক্ষতাকে চারটি নির্দিষ্ট দায়িত্বে ভাগ করেছে। রাষ্ট্র বিলোপ করবে:
- সর্বপ্রকার সাম্প্রদায়িকতা;
- রাষ্ট্র কর্তৃক কোনো ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা দান;
- রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মের অপব্যবহার;
- কোনো বিশেষ ধর্ম পালনকারী ব্যক্তির প্রতি বৈষম্য বা নিপীড়ন৪।
ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়: অনুচ্ছেদ ৪১ প্রত্যেক নাগরিককে যেকোনো ধর্ম অবলম্বন, পালন ও প্রচারের অধিকার দেয়২১। এটি কোনো ধর্মের বিরুদ্ধেও নয়; রাষ্ট্র কোনো ধর্মের পক্ষে নয়, এটুকুই।
কোন লক্ষ্যের পথ
মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের অপরিহার্য পথ। রাষ্ট্র কোনো এক ধর্মকে বিশেষ মর্যাদা দিলে বাকি ধর্মের নাগরিকের প্রতি তা অবিচার, আর তাঁরা কার্যত দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হয়ে যান। "প্রায় নব্বই শতাংশ মুসলমানের দেশে ধর্মনিরপেক্ষতা অচল", এই দাবির জবাবে লেখক সেনেগালের উদাহরণ দেন: প্রায় সাতানব্বই শতাংশ মুসলমানের দেশ, সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষ২২। আবার তুরস্কের অভিজ্ঞতা সতর্ক করে: রাষ্ট্র জোর করে ধর্ম নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে উল্টো ফল হয়।
২০২৬-এ অবস্থা
- সংবিধানে স্ববিরোধ: অনুচ্ছেদ ১২ ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা দিতে নিষেধ করে, আর অনুচ্ছেদ ২ক বলে "প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম"৭।
- ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৩৮-এ ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক সংগঠনের যে সীমা ছিল, ২০১১-তে তা ফেরেনি২৩।
- আগস্ট ২০২৪-এ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ২,০১০টি ঘটনা নথিভুক্ত করেছে; পুলিশের প্রতিবেদনে এর বড় অংশকে "রাজনৈতিক" বলা হয়েছে২৪। হিসাব নিয়ে এই বিতর্কই দেখায়, অনুচ্ছেদ ১২-এর দায়িত্ব বাস্তবে কতটা দুর্বল।
পাঁচ মানদণ্ডে (SMART) ধর্মনিরপেক্ষতা
পঞ্চাশ বছরে পথের কী হলো
প্রথম পরীক্ষা, ১৯৭২–৭৫। সমাজতন্ত্রের পথে চেষ্টা হয়েছিল: ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ ব্যাংক, পাটকলসহ বৃহৎ শিল্প জাতীয়করণ, পরিবারপ্রতি জমির সর্বোচ্চ সীমা ১০০ স্ট্যান্ডার্ড বিঘা, প্রায় ৩৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারি করা২৫। কিন্তু একই প্রণেতাদের হাতে গণতন্ত্রের পথ ভাঙল: দ্বিতীয় সংশোধনী (২২ সেপ্টেম্বর ১৯৭৩), রক্ষীবাহিনীর দায়মুক্তি২৬, ১৯৭৪-এর দুর্ভিক্ষ২৭, আর চতুর্থ সংশোধনীর (২৫ জানুয়ারি ১৯৭৫) একদলীয় ব্যবস্থা২৬। জাতীয়করণ করা শিল্পের নিয়ন্ত্রণও শ্রমিকের হাতে যায়নি, গেছে আমলা আর একটি মধ্যবর্তী শ্রেণির হাতে২৮। লেখকের শিক্ষা: ঘাটতি ছিল জবাবদিহি আর গণতান্ত্রিক মালিকানার।
পথ মুছে ফেলা, ১৯৭৫–৯০। ১৯৭৭ সালের ২৩ এপ্রিলের সামরিক ফরমানে ধর্মনিরপেক্ষতা মুছে ফেলা হলো, সমাজতন্ত্রের অর্থ বদলে করা হলো "অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুবিচার", নাগরিক পরিচয় "বাঙালি" থেকে "বাংলাদেশী"; ১৯৭৯-র পঞ্চম সংশোধনী তা বৈধতা দিল২৯। বিরাষ্ট্রীয়করণ শুরু হলো, আর ১৯৮৮-র অষ্টম সংশোধনী ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করল৩০।
আংশিক প্রত্যাবর্তন, ২০১১। পঞ্চদশ সংশোধনী চার মূলনীতি ফিরিয়ে আনল, কিন্তু রাষ্ট্রধর্ম আর বিসমিল্লাহ রেখে দিল, "জাতি হিসাবে বাঙালী" বসাল, আর অনুচ্ছেদ ৭খ দিয়ে সংবিধানের বড় অংশ সংশোধন-অযোগ্য করল৩১। ২০২৪-এর ডিসেম্বরে হাইকোর্ট আর ২০২৬ সালের ৯ জুলাই আপিল বিভাগ ৭খ বাতিল করেছে এবং গণভোটের বিধান ফিরিয়েছে৩২।
সংস্কার প্রস্তাবে পথের কী হলো
সংস্কার কমিশন (১৫ জানুয়ারি ২০২৫) চার মূলনীতির জায়গায় প্রস্তাব করেছে পাঁচটি: সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ ও গণতন্ত্র১৫। জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র আর ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ (অনুচ্ছেদ ৮, ৯, ১০ ও ১২ মুছে ফেলার সুপারিশ)। কমিশনের প্রকাশিত যুক্তি এক বাক্যের: নতুন নীতিগুলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর ২০২৪-এর পর জনগণের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে২০। কমিশন একই সঙ্গে আদালতে বলবৎযোগ্য একটি অধিকার-সনদ প্রস্তাব করেছে১৫, যা লেখকের প্রস্তাবের খুব কাছাকাছি।
জুলাই জাতীয় সনদ (১৭ অক্টোবর ২০২৫) মূলনীতি হিসেবে বলেছে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার, আর ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি৩৩। এগুলো পুরোনো মূলনীতির সঙ্গে যুক্ত হবে, না পরিবর্তে আসবে, তা অনিষ্পন্ন; ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজ নিজেই এই অস্পষ্টতা স্বীকার করেছেন৩৪। ছয়টি দল মূলনীতি-ধারায় ভিন্নমত দিয়েছিল৩৩, আর চার মূলনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের দলিলের প্রশ্নে চারটি বাম দল (সিপিবি, বাসদ, বাসদ (মার্কসবাদী), বাংলাদেশ জাসদ) সনদে স্বাক্ষর করেনি৩৫। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর গণভোটে সনদের পক্ষে ৬৮.২৬ শতাংশ "হ্যাঁ" পড়েছে৩৬, তবে মূলনীতি নিয়ে আলাদা প্রশ্ন ছিল না।
লেখকের পর্যবেক্ষণ: তিন লক্ষ্যের শব্দগুলো ১৯৭২-এ ছিল পথের অনুচ্ছেদের ভেতরেই। কমিশন আর সনদ শব্দগুলো তুলে এনে আলাদা মূলনীতি বানিয়েছে, আর পথগুলো সরিয়ে দিতে চেয়েছে। সনদের "সামাজিক ন্যায়বিচার" রাষ্ট্রকে কোন খাতে কার মালিকানা, কোন সম্পদের কত সীমা, কোন সেবা সর্বজনীন, এমন কোনো নির্দিষ্ট কাজে বাধ্য করে না। আর "সম্প্রীতি" সমাজের আকাঙ্ক্ষা; ধর্মনিরপেক্ষতা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
নাগরিক পরিচয় "বাংলাদেশি" করার প্রশ্নে কমিশন, সনদ আর লেখক একমত। পার্থক্য স্বীকৃতিতে: লেখক চান স্বীকৃতিসহ নাগরিক পরিচয়, অর্থাৎ "বাংলাদেশি" নাগরিকত্বের সঙ্গে আদিবাসীসহ সব জাতিগোষ্ঠীর সাংবিধানিক স্বীকৃতি; স্বীকৃতির বদলে নাগরিক পরিচয় নয়।
লেখকের প্রস্তাব (বর্তমান আইন নয়): তিন লক্ষ্য আর সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মূলনীতির ন্যূনতম বিষয়বস্তু একটি চিরস্থায়ী ধারায় (প্রস্তাবিত অনুচ্ছেদ ১৪২ক) সুরক্ষিত থাকুক; পথের রূপ, প্রতিষ্ঠান আর গতি বদলযোগ্য থাকবে। ধারাটি গৃহীত হতে লাগবে সংসদের তিন-চতুর্থাংশ আর গণভোটে অন্তত ৬০ শতাংশ সমর্থন; গৃহীত হলে সংসদ, দল বা গণভোট কেউ তা বদলাতে পারবে না। বিস্তারিত চিরস্থায়ী ধারা পাতায়। অনুচ্ছেদ ৮ নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের অবস্থান অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত প্রকাশ্যে জানা যায়নি (এখন কোথায়)।
সূত্র
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, সপ্তম তফসিল, "স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র (অনূদিত)", http://bdlaws.minlaw.gov.bd/upload/act/2022-04-18-12-44-14-Schedule__957.pdf; ইংরেজি পাঠ: https://bdlaws.minlaw.gov.bd/upload/act/2022-04-18-13-27-54-Scheudle__367.pdf ফিরুন
- বাংলাপিডিয়া, "Constitution", https://en.banglapedia.org/index.php/Constitution; Amitava Kar, "We, the People," The Daily Star, ১২ ডিসেম্বর ২০১৩, https://www.thedailystar.net/node/7497; "Bangladesh Constitution Day today," The Financial Express, ৪ নভেম্বর ২০২২, https://old.thefinancialexpress.com.bd/national/bangladesh-constitution-day-today-1667546440 ফিরুন
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, প্রস্তাবনা, http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-957.html ফিরুন
- সংবিধান, অনুচ্ছেদ ৯, ১০, ১১, ১২: অনুচ্ছেদ ৯, অনুচ্ছেদ ১০, অনুচ্ছেদ ১১, অনুচ্ছেদ ১২ ফিরুন
- সংবিধান, অনুচ্ছেদ ৮(২), http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-957/section-29360.html ফিরুন
- M. Abdul Halim, Bangladesh Constituent Assembly Debates (ঢাকা: CCB Foundation, ২০১৪), ২৫ ও ৩১ অক্টোবর ১৯৭২-এর কার্যবিবরণী; আমীন আল রশীদ, "সংসদীয় বিতর্ক-১: জাতীয়তাবাদ ও ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে গণপরিষদে তোলপাড়," বিডিনিউজ২৪, ১৭ আগস্ট ২০২৪, https://bangla.bdnews24.com/opinion/ba476c59e61d; Kawser Ahmed, "The voices of dissent in the Constituent Assembly of Bangladesh: Sengupta, Larma and Chowdhury," The Daily Star, ৪ নভেম্বর ২০২২, https://epfs.thedailystar.net/TDS/2022/11/04/Bangladesh/SUP/5_02/83f38c1b5ab0d523_02.pdf ফিরুন
- সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন, ২০১১ (২০১১ সনের ১৪ নং আইন; সংসদে পাস ৩০ জুন ২০১১); সংবিধান, অনুচ্ছেদ ২ক, ৬(২), ৭খ, ২৩ক: http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-957/section-29339.html, http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-957/section-29344.html, http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-957/section-41500.html, http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-957/section-41502.html ফিরুন
- "Home minister rejects separate indigenous identity in Bangladesh," Dhaka Tribune, ১১ আগস্ট ২০২৬, dhakatribune.com ফিরুন
- সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১৩, ১৪, ১৫, http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-957/section-29365.html, http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-957/section-29366.html, http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-957/section-29367.html। এখানে অনুচ্ছেদগুলোর ভাবার্থ দেওয়া হয়েছে। ফিরুন
- Mahbub ul Haq, The Poverty Curtain: Choices for the Third World (New York: Columbia University Press, ১৯৭৬), ৫–৬, https://archive.org/stream/the-poverty-curtain-choices-for-the-third-world_compress/the-poverty-curtain-choices-for-the-third-world_compress_djvu.txt ফিরুন
- "Gini index," World Bank Open Data, https://data.worldbank.org/indicator/SI.POV.GINI; নর্ডিক কল্যাণ-রাষ্ট্রের সূচনা ১৯৩০-এর দশকে: "Nordic model," Wikipedia, https://en.wikipedia.org/wiki/Nordic_model ফিরুন
- Jon Pareliussen, "Structural Inequality – The Case of Sweden", OECD Ecoscope, ২৭ এপ্রিল ২০১৭, https://oecdecoscope.blog/2017/04/27/structural-inequality-the-case-of-sweden/ ফিরুন
- Jahangir Shah, "BBS data review: Private investment falls to 10-year low as share of GDP," Prothom Alo (English), ১ মার্চ ২০২৬, https://en.prothomalo.com/business/local/6xa5u9z25l; বিবিএসের ২০২৪–২৫ অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাব। "প্রায় তিন টাকা" লেখকের হিসাব: ২২.০৩ ÷ ২৮.৫ ≈ ০.৭৭। ফিরুন
- FHM Humayan Kabir, "Inequality increases as 5.0pc amass 30.4pc wealth," The Financial Express, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৩, thefinancialexpress.com.bd (মূল উৎস: বিবিএস, খানা আয় ও ব্যয় জরিপ ২০২২) ফিরুন
- সংবিধান সংস্কার কমিশন, প্রতিবেদন (১৫ জানুয়ারি ২০২৫); ইংরেজি সারসংক্ষেপ, ConstitutionNet, https://constitutionnet.org/sites/default/files/2025-09/2025-02-22-11-20-1d7141a3f13ce7353d13c0223ef65b40.pdf ("recommends the deletion of Articles 8, 9, 10 and 12"; "a single charter, entitled 'Fundamental Rights and Freedoms' … all of the rights be judicially enforceable"); মো. আব্বাস, "What rights will it ensure?", The Daily Star, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, https://tds-images.thedailystar.net/news/bangladesh/news/what-rights-will-it-ensure-3819546; "Constitutional Reform Commission", Wikipedia, https://en.wikipedia.org/wiki/Constitutional_Reform_Commission ফিরুন
- সংবিধান, প্রস্তাবনা, http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-957.html; অনুচ্ছেদ ১০ ও ১১। অনুচ্ছেদ ১১ চতুর্থ (১৯৭৫) ও দ্বাদশ (১৯৯১) সংশোধনীতে বদলেছে; উদ্ধৃতি বর্তমান পাঠ থেকে। ফিরুন
- "Bangladesh slips 25 notches in Democracy Index 2024," The Business Standard, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ (সূচক প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫), https://www.tbsnews.net/node/1080606; শ্রেণি ও নম্বরের সীমা: "The Economist Democracy Index," Wikipedia, https://en.wikipedia.org/wiki/The_Economist_Democracy_Index ফিরুন
- "59.44 percent votes cast in national election: EC," The Financial Express (ইউএনবি), ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, https://thefinancialexpress.com.bd/national/5944-percent-votes-cast-in-national-election-ec ফিরুন
- "Awami League's registration suspended," Dhaka Tribune, ১২ মে ২০২৫, https://www.dhakatribune.com/bangladesh/381058/awami-league%E2%80%99s-registration-suspended; "AL activities remain banned as parliament turns anti-terror ordinance into law," The Business Standard, ৮ এপ্রিল ২০২৬, https://www.tbsnews.net/bangladesh/parliament-passes-anti-terrorism-bill-als-registration-suspended-under-new-law ফিরুন
- "Secularism, 2 other principles to be dropped, 4 new ones to be added in constitution," Prothom Alo English, ১৫ জানুয়ারি ২০২৫, https://en.prothomalo.com/bangladesh/afple57ubu ফিরুন
- সংবিধান, অনুচ্ছেদ ৪১(১)(ক), http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-957/section-30007.html ফিরুন
- Senegal's Constitution of 2001 with Amendments through 2016, অনুচ্ছেদ ১, Constitute Project, https://www.constituteproject.org/constitution/Senegal_2016; "2023 Report on International Religious Freedom: Senegal," U.S. Department of State, ২৬ জুন ২০২৪, ecoi.net, https://www.ecoi.net/de/dokument/2111949.html; Ahmet T. Kuru, Secularism and State Policies toward Religion: The United States, France, and Turkey (২০০৯)। ফিরুন
- সংবিধান, অনুচ্ছেদ ৩৮; ১৯৭২-এর মূল শর্তাংশ উদ্ধৃত: শাখাওয়াত লিটন, "Law doesn't allow Jamaat politics," The Daily Star, ২৯ অক্টোবর ২০০৭, https://www.thedailystar.net/news-detail-9524; "Proclamation," Banglapedia, https://en.banglapedia.org/index.php/Proclamation; বর্তমান পাঠ: Laws of Bangladesh, https://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-367/part-details-200.html ফিরুন
- "Majority of attacks on minorities not of communal nature: Bangla police", The Tribune, ১২ জানুয়ারি ২০২৫, https://www.tribuneindia.com/news/world/majority-of-attacks-on-minorities-not-of-communal-nature-bangla-police ফিরুন
- The Bangladesh Banks (Nationalisation) Order, 1972 (P.O. No. 26 of 1972), https://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-377.html; The Bangladesh Industrial Enterprises (Nationalisation) Order, 1972 (P.O. No. 27 of 1972), https://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-378.html; The Bangladesh Land Holding (Limitation) Order, 1972 (P.O. No. 98 of 1972), ধারা ৩, https://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-411/section-9515.html; The Primary Schools (Taking Over) Act, 1974, ধারা ১, https://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-458/section-10542.html; বিদ্যালয়ের সংখ্যা: "Literacy rate in Bangladesh 74.7pc: Zakir," Prothom Alo (English), ৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, https://en.prothomalo.com/bangladesh/government/literacy-rate-in-bangladesh-747pc-zakir; জাতীয়করণের পরিসর: "Privatisation," Banglapedia, https://en.banglapedia.org/index.php/Privatisation ফিরুন
- Talukder Maniruzzaman, "Bangladesh: An Unfinished Revolution?" The Journal of Asian Studies ৩৪, সংখ্যা ৪ (১৯৭৫): ৮৯১–৯১১; Rounaq Jahan, "Bangladesh in 1973: Management of Factional Politics," Asian Survey ১৪, সংখ্যা ২ (১৯৭৪): ১২৫–৩৫; সংশোধনী ও জরুরি অবস্থার তারিখ: "Constitutional Amendments," Banglapedia, https://en.banglapedia.org/index.php/Constitutional_Amendments; রক্ষীবাহিনী: Jatiya Rakkhi Bahini Order, 1972 (P.O. No. 21 of 1972); Jatiya Rakkhi Bahini (Amendment) Act, 1974 (Act No. XI of 1974), Bangladesh Gazette, Extraordinary, ৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪। ফিরুন
- Amartya Sen, Poverty and Famines: An Essay on Entitlement and Deprivation (Oxford: Clarendon Press, ১৯৮১), অধ্যায় ৯; Mohiuddin Alamgir, Famine in South Asia: Political Economy of Mass Starvation (Cambridge, MA: Oelgeschlager, Gunn & Hain, ১৯৮০); Naomi Hossain, "Theorising the politics of famine: Bangladesh in 1974," Disasters ৫০, সংখ্যা ১ (২০২৬): e70041, https://europepmc.org/article/PMC/PMC12822237 ফিরুন
- Rehman Sobhan ও Muzaffer Ahmad, Public Enterprise in an Intermediate Regime: A Study in the Political Economy of Bangladesh (ঢাকা: Bangladesh Institute of Development Studies, ১৯৮০)। ফিরুন
- Proclamations (Amendment) Order, 1977 (২৩ এপ্রিল ১৯৭৭); সংবিধান (পঞ্চম সংশোধন) আইন, ১৯৭৯ (৬ এপ্রিল ১৯৭৯); পঞ্চম সংশোধনী মামলা, ৬২ DLR (AD) ২৯৮ (২০১০)। দেখুন "Proclamation," Banglapedia, https://en.banglapedia.org/index.php/Proclamation; "Fifth Amendment to the Constitution of Bangladesh," Wikipedia, https://en.wikipedia.org/wiki/Fifth_Amendment_to_the_Constitution_of_Bangladesh ফিরুন
- সংবিধান (অষ্টম সংশোধন) আইন, ১৯৮৮ (১৯৮৮ সালের ৩০ নং আইন), সংসদে পাস ৭ জুন ১৯৮৮; "Constitutional Amendments," Banglapedia, https://en.banglapedia.org/index.php/Constitutional_Amendments ফিরুন
- সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন, ২০১১ (২০১১ সালের ১৪ নং আইন), সংসদে পাস ৩০ জুন ২০১১; "Portions of 15th amendment scrapped, caretaker govt system restored," Dhaka Tribune, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪, https://www.dhakatribune.com/bangladesh/court/368342/high-court-declares-15th-amendment-abolishing; "Appellate Division upholds HC verdict restoring caretaker govt, referendum in constitution," The Business Standard, ৯ জুলাই ২০২৬, https://www.tbsnews.net/bangladesh/court/appellate-division-upholds-hc-verdict-restoring-caretaker-government-referendum ফিরুন
- হাইকোর্ট বিভাগের রায়, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪; আপিল বিভাগ, ৯ জুলাই ২০২৬; "SC restores caretaker govt provisions, referendums," Dhaka Tribune, ৯ জুলাই ২০২৬, https://www.dhakatribune.com/bangladesh/court/414678/sc-clears-way-for-caretaker-government-provision-s; "15th amendment to constitution: HC scraps part that abolished caretaker system," The Daily Star, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪, https://www.thedailystar.net/news/bangladesh/news/15th-amendment-constitution-hc-scraps-part-abolished-caretaker-system-3778971 ফিরুন
- "চূড়ান্ত জুলাই সনদে যা থাকছে," বিডিনিউজ২৪, ১৫ অক্টোবর ২০২৫, https://bangla.bdnews24.com/politics/759055692105; "জুলাই সনদে যেসব বিষয়ে একমত ও ভিন্নমত রাজনৈতিক দলগুলোর," বাংলা ট্রিবিউন, ১৫ অক্টোবর ২০২৫, https://www.banglatribune.com/national/919133/। ছয়টি দল (গণফোরাম, জেএসডি, সিপিবি, বাংলাদেশ জাসদ, বাসদ ও বাসদ-মার্ক্সবাদী) ভিন্নমত দিয়েছিল। ফিরুন
- মহিউদ্দিন আলমগীর, "সাংবিধানিক সংস্কারের ভিত্তি জুলাই সনদ," দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, ১৮ অক্টোবর ২০২৫, https://bangla.thedailystar.net/news/bangladesh/news-706876 ফিরুন
- "স্বাধীনতার ঘোষণা বাদ দেওয়ার সুপারিশ, তাই জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবে না সিপিবিসহ চার দল," প্রথম আলো, ১৬ অক্টোবর ২০২৫, https://www.prothomalo.com/politics/xf78lnup2m ফিরুন
- "Election Commission revises referendum results again," Prothom Alo (English), ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, https://en.prothomalo.com/bangladesh/p5gtakduhu; "Bangladesh gazettes referendum results, 68.59% back 'Yes'," bdnews24.com, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, https://bdnews24.com/national-election-2026/de33a9ca4a1f। প্রথম গেজেটে "হ্যাঁ" ছিল ৬৮.৫৯%; ২৫ ফেব্রুয়ারি তারিখে জারি হওয়া সংশোধিত গেজেটে ৬৮.২৬%। ফিরুন